প্রতি আরবী মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার মাসিক ইজতেমা স্থান : জিরো পয়েন্ট, বাইতুল উলুম কওমী মাদরাসা , প্রতি বৃহস্পতিবার বাদ আছর সাপ্তাহিক এসলাহী মজলিস ও রাত্রে সবগুজারি এবং প্রতি শুক্রবার বাদ ফজর দাওয়াতুল হকের সাপ্তাহিক মজলিস।

কুনূতে নাজেলা

বিইসমিহী তা‘আলা
কুনূতে নাযেলা : قنوت النوازل
(মহামারী বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির আমল)

নাহমাদুহু অনুছল্লি ‘আলা রসূলিহিল কারীম। আম্মা বা‘দ। প্রকাশ থাকে যে, কুনূত দুই ধরনের। একটি হল সবসময় নামাজের অযিফা হিসাবে পড়া, যাকে কুনূতে রাতেবা বলা হয়। আর অপরটি হল বিশ্বের মজলুম মুসলিমদের উপরে জালেম অমুসলিমদের পক্ষ থেকে অমানবিক জুলুম, অত্যাচার দেখা দিলে নামাযে একধরনের কুনূত পড়া হয়, যাকে কুনূতে নাযেলা বলা হয়। ইসরাঈল, সিরিয়া, ইরাক, মায়ানমারাধীন বর্তমানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর অমুসলিম জালেমদের চালিত অমানবিক নির্যাতনসহ সারা বিশ্বে মুুসলমানদের উপর যে ব্যাপক বালা-মুসিবত তা থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য কুনূতে নাযেলার আমল করা ও সাধ্যানুযায়ী তাদেরকে সাহায্য করা প্রয়োজন।

কুনূতে নাযেলা পড়ার বিধানঃ বিশ্বের মুসলমানের উপরে জালেমদের পক্ষ থেকে অমানবিক জুলুম, অত্যাচার দেখা দিলে ইসলামের শত্রুদের জন্য হেদায়েতের দু‘আ বা বদ-দু‘আ করার জন্য ফজরের নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে কুনূতে নাযেলা পড়া মুস্তাহাব। সর্বদা ফজরের নামাজের সময় এমনটি করবে না। বাকি যদি কেউ করে, তাহলে সেটিতে বাতিল বলে বাঁধা দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। তবে কথা হল কুনূতে নাযেলা শুধু বিশেষ মুহুর্ত তথা ব্যাপক বিপদ, যুদ্ধকালীন সময় ইত্যাদি মুসিবতের সময় পড়াই মুস্তাহাব।
ان قنوت النوازل لم ينسخ بل هو مشروع اذا نزل بالمسلمين نازلة ان يقنت الامام في الفجر ـ
অর্থাৎ, কুনূতে নাযেলা রহিত হয়নি বরং তা এখনো বহাল রয়েছে। মুসলমানদের দুর্যোগ কালে ফজরের নামাজে ইমাম কুনূত পড়বে।
(এলাউস সুনান – ৬/৮১)

মুুসলমানদের উপর যদি ব্যাপক বালা-মুসিবত ও বিপদ আসে, তাহলে সেক্ষেত্রে আল্লাহ-তা‘আলার নিকট সাহায্য কামণার্থে কুনূতে নাযেলা পড়া মুস্তাহাব। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিপদ আপতিত হলে ফজরের নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সময় কুনূতে নাযেলা পড়েছেন। (সহীহ বুখারী – ২/৬৫৫, তাহাবী শরীফ – ১/১৭৪, সহীহ মুসলিম – ১/২৩৭)

তাই হানাফী মাযহাব মতে, কাফের, মুশরিক ও জালেমদের পক্ষ থেকে বা আসমানী কোন বিপদ আসলে কুনূতে নাযেলা পড়া উচিত।
(ফাতওয়ায়ে শামী – ২/৪৪৮,৪৪৯)

কুনূতে নাযেলা পড়ার পদ্ধতিঃ ফজরের নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে উঠে ইমাম আওয়াজ করে নিম্নোক্ত দু‘আ পড়বেন। আর মুসল্লিগণ আস্তে আস্তে আমীন বলবেন। দু‘আ শেষে নিয়ম মোতাবেক সেজদা, শেষ বৈঠক ইত্যাদির মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।
(এলাউস সুনান – ৬/৮১)
اَللّٰهُمَّ اهْدِنَا فِيْمَنْ هَدَيْتَ ، وَعَافِنَا فِيْمَنْ عَافَيْتَ ، وَتَوَلَّنَا فِيْمَنْ تَوَلَّيْتَ ، وَبَارِكْ لَنَا فِيْمَاۤ اَعْطَيْتَ ، وَقِنَا شَرَّ مَا قَضَيْتَ، اِنَّكَ تَقْضِىْ وَلَا يُقْضٰى عَلَيْكَ ، وَاِنَّهٗ لَا يَذِلُّ مَنْ وَّالَيْتَ ، وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ ، نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ اِلَيْكَ ، وَصَلَّى اللهُ عَلَى النَّبِىِّ الْكَرِيْمِ ـ
اَللَّهُمَّ اغْفِرْلَنَا وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ ، وَاَلِّفْ بَيْنَ قُلُوْبِهِمْ ، وَاَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِهِمْ ، وَانْصُرْهُمْ عَلٰى عَدُوِّكَ وَعَدُوِّهِمْ ، اَللَّهُمَّ الْعَنِ الْكَفَرَةَ اَللّٰهُمَّ عَذِّبِ الْكَفَرَةَ اَهْلَ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِيْنَ وَالْبُوْذِيَّةَ الَّذِيْنَ يَجْحَدُوْنَ اٰيَاتَكَ وَيَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِكَ وَيُكَذِّبُوْنَ رُسُلَكَ وَيُقَاتِلُوْنَ اَوْلِيَآئَكَ وَالْمُسْلِمِيْنَ وَيَخْرُجُوْنَ مِنْ دِيَارِهِمْ وَيَدْعُوْنَ مَعَكَ اِلٰهًا اٰخَرَ لَا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ عَمَّا يَقُوْلُ الظّٰلِمُوْنَ عُلُوًّا كَبِيْرًا، اَللَّهُمَّ اَلْقِ فِىْ قُلُوْبِهِمُ الْرُعْبَ وَخَالِفْ بَيْنَ كَلِمَتِهِمْ وَزَلْزِلْ اَقْدَامَهُمْ وَاَنْزِلْ عَلَيْهِمْ رِجْزَكَ وَعَذَابَكَ وَاَنْزِلْ بِهِمْ بَأْسَكَ الَّذِىْ لَاتَرُدُّهٗ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِيْنَ ـ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনি তাদের সাথে হেদায়েত দান করুন, যাদেরকে আপনি হেদায়েত দান করেছেন। আমাদেরকে আপনি তাদের সাথে শান্তি-স্বস্তি দান করুন, যাদেরকে আপনি শান্তি-স্বস্তি দান করেছেন। আমাদের প্রতি তাদের ন্যায় অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন, যাদের প্রতি আপনি অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন। আমাদেরকে আপনি বরকত দান করুন, যা আপনি আমাদেরকে দান করেছেন এবং রক্ষা করুন আমাদের পর অনিষ্ট হতে, যা আপনি নির্ধারণ করেছেন (আমাদের জন্য)। কেননা আপনি নির্দেশ দান করেন, আপনার উপর নির্দেশ দান করা চলে না। বস্তুতঃ সে ব্যক্তি অপমাণিত হয় না যাকে আপনি বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন। আর সম্মানিত হয় না সেই ব্যক্তি, যাকে আপনি শত্রু ভেবেছেন। বরকতময় আপনি হে আমাদের প্রতিপালক আর আপনি-ই সুউচ্চ। আমরা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকে রুজু হই। হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন আমাদের এবং মুমিন নর ও মুমিন নারীদেরকে আর মুসলমান নর ও মুসলমান নারীদেরকে তাদের অন্তরসমূহ জুড়িয়ে দিন আর তাদের মাঝে মীমাংসা করে দিন। সাহায্য করুন তাদেরকে আপনার শত্রু ও তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে। হে আল্লাহ! লানত বর্ষণ করুন কাফেরদের প্রতি, যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আপনার পথে এবং অস্বীকার করে আপনার রসূলদেরকে আর যুদ্ধবিগ্রহ করে আপনার ওলিদের সাথে। হে আল্লাহ! বিভেদ সৃষ্টি করে দিন তাদের কথার মাঝে এবং কম্পন সৃষ্টি করে দিন তাদের পদযুগলে আর নাযিল করুন আপনার এমন শাস্তি যা আপনি অপরাধীগণ থেকে অপসারণ করেন না।

নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে: হযরত মুফতী শাহ্ নূরুল আমীন ছাহেব (দামাত বারাকাতুহুম), খুলনা।
খলীফা: আরেফ বিল্লাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্ হাকীম মুহাম্মাদ আখতার ছাহেব (রহ্মাতুল্লাহি ‘আলাইহি), করাচী।
আমীর: মাজলিসে দাওয়াতুল হক্ব, খুলনা। মোবাইল নং- ০১৭১১-০১৮৮৮৯, ০১৯১৯-০১৮৮৮৯
**ফেইজবুক পেইজ- ভন/শযধহয়ধযরসফধফরধশযঁষহধ **ওয়েব সাইট- িি.িহঁৎনফ.হবঃ

প্রকাশনায়ঃ প্রকাশনা বিভাগ, খানকায়ে ইমদাদিয়া আশরাফিয়া, খুলনা। প্রকাশনা: ০১৯৫৪-৬৩৮০৬২, প্রোগ্রাম: ০১৯৩৬-৬৫২৬৩১

Visits: 107